ক্যান্সার কথা
মাস্টার্স
কমপ্লিট করেছি সবেমাত্র, কাগজে অ্যাড দেখে আপ্লাই করে রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টের পদে চাকরি পেয়ে
গেলাম চিত্তরঞ্জন ন্যাশানাল ক্যান্সার ইন্সটিটিউটের এপিডেমিওলজি বায়োস্টাটিস্টিক্স
ডিপার্টমেন্টে। সেটা
১৯৯৭ সাল। বসে না থেকে কিছু কাজ করবো এটাই মাথায় ছিল তখন। আর সেটা পাবলিক হেল্থ রিসার্চ হলে তো কথাই নেই। আমার দ্বারা
মানুষের ও সমাজের কিছুমাত্র উপকার হওয়ার সম্ভাবনা
আছে- সেই বয়সে এই কথাটা মনে এলে নিজেকে নিয়ে আলহাদের শেষ থাকতো না। তখনও জানা ছিল
না ‘ক্যান্সার’ শব্দটির সঙ্গে আমার গাঁটছড়া সারা জীবনের মতো বাধা হয়ে গেল। একে
অতিক্রম করে যেতে পারব না কোনদিন। কান্সারের উল্টোদিকে দাঁড়িয়ে যারা লড়ছেন এমন অগণিত মানুষের
একজন হয়ে আজও দাঁতে দাঁত চেপে বলে চলেছি ‘তোমাকে আমি ভয় পাই না। আমি মানি না তুমি
সর্বশক্তিমান। হারতেই হবে তোমাকে’। কান্সারের বিরুদ্ধে এই লড়াই এ, আক্রান্ত রোগী, তার বাড়ির লোক, ডাক্তার, গবেষক, আরও অনেক মানুষ যারা কোনও না কোনও ভাবে এর সাথে যুক্ত তারা
সবাই একই পরিবারের মানুষ হয়ে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বার বার হেরে যেতে যেতেও
মন্ত্রের মতো উচ্চারন করে চলেন এই শব্দগুলি। এই মন্ত্র শক্তিই জিতিয়ে দেবে একদিন
না একদিন এই বিশ্বাস টিকিয়ে রেখে নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে প্রস্তুত করেন কঠিন থেকে
কঠিন তর যুদ্ধের জন্য। মুষ্টি যুদ্ধের আসরে যেমন শক্তিমান প্রতিপক্ষ প্রবল আক্রমণে
যাবতীয় মনবল চুরমার করে দিয়েও শান্ত হয় না, আবার যুদ্ধে আহ্বান করতে থাকে, বারংবার
সমস্ত চেতনার অন্তঃস্থলে খোদাই করে দিতে চায় তার অমিত শক্তির প্রমাণ। এও যেন তাই। নতজানু হয়ে
প্রাণ ভিক্ষা করলেও তার মন পাওয়া যায় না। সমস্ত মানব জাতির
নিয়তির নির্ধারক হতে চায় সে। এই সর্বগ্রাসী চাওয়ার কাছে
মানুষের মেরুদণ্ডহীন আত্মসমর্পণ তার কাম্য। প্রতিপক্ষ যতই শক্তিমান হোক তার স্পর্ধার কাছে মাথা নুইয়ে
যুদ্ধস্থল থেকে পালিয়ে আসাটা সম্মানের নয়। লড়াই চালিয়ে যেতেই হয়। শুধু আক্রান্ত ব্যক্তি টি নন, প্রতিনিয়ত
তাদের সঙ্গে যুক্ত তাদের কাছের মানুষগুলির জীবনও ছারখার করে করে দিচ্ছে সে। যেন
তার আসে পাশে একটিও আত্মবিশ্বাসী লড়াকু মুখ সে বরদাস্ত করবে না। সর্বস্বান্ত হয়ে
যাওয়া ভ্যাবাচ্যাকা মুখের মিছিলের সামনে বেঁকা ক্রূর হাসি হেসে বার বার জিতে যেতে তার
বড্ড ভাল লাগে। বিজ্ঞান কে সামান্য আর বিজ্ঞানের প্রতি একনিষ্ঠ গবেষকদের মূর্খ
প্রমানিত করাই তার সবচেয়ে প্রিয় খেলা।
চলবে...
Comments
Post a Comment